মা-বাবার সামান্য একটু ভুলের কারণে কিছু কিছু সন্তানকে আজীবন কষ্ঠ ভোগ করতে হয় এবং নিন্দা বইতে হয়। অনেক প্রতিবন্ধী শিশু আছে যাদের জন্য তাদের বাবা-মায়ের আজীবনের জন্য চোখের পানি ফেলতে হয়। কিন্তু যদি একটু সতর্ক হওয়া যায় এবং কিছু নিয়মনীতি মেনে চলা হয় তবেই এই অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তাই হেলথ এ্যান্ড ফিটনেস টিপস আজ আপনাদের জন্য নিয়ে এলো কি কারণে বা মা-বাবার কি ভুলের কারণে সন্তান প্রতিবন্ধী হয়ে জন্মগ্রহণ করে।
তাই আসুন জেনে নিই সন্তান প্রতিবন্ধী
হওয়ার আসল কারণগুলো ও শুধরে নিই নিজেদের।
গর্ভবতী অবস্থায় ওষধ গ্রহণঃ গর্ভবতী অবন্থায় শিশুর মা যদি ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই নানা প্রকার ওষধ খেতে থাকে তা শিশুর জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হতে পারে। কিছু ওষধ ভ্রণের অঙ্গ তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে শিশু যে কোন ধরনের বিকলাঙ্গ বা প্রতিবন্ধী হয়ে জন্ম নিতে পারে।
গর্ভবতী মায়ের অপুষ্টিঃ গর্ভবতী মা যদি দীর্ঘদিন যাবত রক্ত স্বল্পতায় ভোগেন পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার না খান তবে ভ্রণের স্বাভাবিক গঠণগত বিকলাঙ্গতা দেখা দেয়। মস্তিষ্কের বিকাশ ব্যাহত হয় ফলে শিশু কম ওজন নিয়ে জন্মায় এবং এদের অর্ধেকের মৃত্যু পর্যন্ত ঘটে তাও জন্মের ৪৮ ঘন্টার মধ্যে।
গর্ভাবস্থায় মায়ের রোগসমূহঃ গর্ভাবস্থায় মা যদি প্রথম তিন মাসে যক্ষা, মেলেরিয়া, জার্মানহাম, চিকেনপক্স, মাম্পস, রুবেলা ভাইরাস ও এইডস ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হন তবে গর্ভস্থ শিশুর উপর প্রভাব অত্যন্ত ক্ষতিকর হয়। শিশু শারিরীকভাবে বিকলাঙ্গ এবং মানসিক প্রতিবন্ধী হতে পারে। এছাড়া মায়ের ডায়বেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির সমস্যা, থাইরয়েড জনিত সমস্যা, শারিরীক সমস্যার ক্ষেত্রে গর্ভস্থ শিুশু শারিরীক প্রতিবন্ধী হতে পারে।
মায়েরা ফরমালিনযুক্ত খাবার খেলেঃ মায়েরা ফরমালিনযুক্ত খাদ্য খেলে বিকলাঙ্গ শিশু জন্ম নিতে পারে। এর পাশাপাশি সন্তানেরা বোকা ও হাবাগোবা হয়ে যেতে পারে।
মায়ের বয়সঃ গর্ভধারণের সময় মায়ের বয়স কম বা বেশি দুটিই গর্ভস্থ শিশুর জন্য ঝুকিপূর্ণ। তাই অপরিণত বয়সে মা হলে ত্রুটিপূর্ণ শিশুর জন্ম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আবার বেশি বয়সে অন্তক্ষরা গ্রন্থির কার্যাবলি হ্রাস পায়। তাই ৩৫ বছর বয়সের পরে যে সব মায়েরা শিশু জন্ম দেয় সেসব শিশু বিকলাঙ্গ বা প্রতিবন্ধী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
গর্ভাবস্থায় ঘন ঘন খিচুনিঃ গর্ভাবস্থায় মা যদি ঘন ঘন খিচুনি রোগে আক্রান্ত হন তবে শিশুর শরীরে অক্সিজেনের অভাব ঘটে এবং তার মস্তিষ্কের ক্ষতি করে। ফলে শিশু মানসিক প্রতিবন্ধী বা বিকলাঙ্গ হতে পারে।
গর্ভাবস্থায় তেজস্ক্রিয় পদার্থের প্রবেশঃ গর্ভাবস্থায় বিশেষত প্রথম তিন মাসে এক্সরে বা অন্য কোন ভাবে মায়ের দেহে যদি তেজস্ক্রিয় রশ্নি প্রবেশ করে তবে গর্ভস্থ ভ্রণের নারতন্ত্রের ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ফলে শিশু মানসিক প্রতিবন্ধী বা বিকলাঙ্গ হয়।
মা-বাবার রক্তের RH উপাদানঃ মা যদি RH পজেটিভ আর বাবা যদি RH নেগেটিভ হয় তাহলে গর্ভস্থ সন্তানের RH পজেটিভ বা নেগেটিভ হতে পারে। মা ও সন্তানের RH উপাদানের মধ্যে যদি মিল না থাকে তবে তাকে RH ইনকম্পাটিবিলিটি বলা হয়। এতে মৃত সন্তান হয় যদি শিশু বেচে যায় তবে মস্তিষ্কে সমস্যা বা পক্ষপাতগ্রস্ত নিয়ে জন্মায়।

0 Comments